বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও বেড়েছে তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৩ দশমিক ১১ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৩০ ডলারে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/কমলো-গ্যাস-সিলিন্ডারের-ম/
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনও স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজার এখন ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইসরাইল পশ্চিম ও মধ্য ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর পথে এগোতে উৎসাহিত করবে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/সাবেক-ডেপুটি-গভর্নর-এখন-ই/
অন্যদিকে মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক সংকট—দুই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে আগামী কয়েক মাস বিশ্ববাজারে মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।