ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে গত ২১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স, যেখানে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। তার ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একসময় বিরল চরম তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতি বছরই দেখা দিচ্ছে এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন,
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দাবদাহের সবচেয়ে তীব্র সময় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নিহতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।অন্যদিকে, জার্মানিতেও রেকর্ড তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, মহাসড়কের কংক্রিট ফেটে গেছে এবং রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বার্লিনে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন,
এদিকে সুইডেন, ডেনমার্ক ও গ্রীসেও তীব্র আবহাওয়া বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বজ্রপাত, ঝড় এবং দাবানলের উচ্চ ঝুঁকিতে বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি রয়েছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এত ভয়াবহ দাবদাহের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাদের মতে, কয়েক দশক আগেও এমন তাপপ্রবাহ ছিল বিরল ঘটনা, যা এখন অনেক বেশি ঘন ঘন ঘটছে।