দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রবিবার টাঙ্গাইল, নেত্রকোণা ও ঝালকাঠিতে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর এবং মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সময়ে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
টাঙ্গাইলে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন দেলদুয়ার ও মির্জাপুরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন,
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে ভাঙচুর চালান। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দের বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ নেই এবং এ ঘটনায় পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঝালকাঠিতে ‘মানব কল্যাণ সোসাইটি’র উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন লোডশেডিং, গ্রাহক হয়রানি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত বিলের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন,
এদিকে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লারের ত্রুটি এবং অপর একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের জ্বালানি সংকটের কারণে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ থাকা কেন্দ্র দুটি হলো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছে সরকার।