নদীর পাশে দাঁড়িয়ে
—————————-
নদীর পাশে দাঁড়াল
নিজেকে হালকা মনে হয়,
যেন অনেক কথা
জল নিয়ে নিচ্ছে নিজের সঙ্গে।
এখানে দাঁড়িয়ে বোঝা যায়—
সব কিছু ধরে রাখা জরুরি নয়,
কিছু জিনিস
চলে যেতে দিতে হয়।
পাড়ের মানুষগুলো জানে,
নদী কখনো শুধু নদী নয়,
সে স্মৃতি,
সে অপেক্ষা।
আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি,
আর নদী আমাকে শেখায়
নীরবতারও একটি ভাষা আছে।
সন্ধ্যার চিঠি
——————-
সন্ধ্যা নামে মৃদু আলো,
জানালার কাঁচে পড়ে অদৃশ্য আকার।
শহর এখনো কেবল শুনছে,
কেউ চুপচাপ, কেউ একটু হেসে।
চায়ের কাপের ধোঁয়া বলে,
আজকের গল্পও শেষ হয়েছে।
আমি একটি চিঠি লিখি মনে,
যাতে রাত বুঝতে পারে—
আমরা আজও জীবনকে ভুলিনি।
বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে,
নিঃশব্দে জানাচ্ছে দিনের শেষ।
আর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি,
চিঠিটি নদীর সঙ্গে মিলিয়ে দিই।
আমি সাক্ষী নই, আমি অভিযুক্ত
————————————-
আমি সাক্ষী নই—
কারণ যে সময়ে অন্যায় ঘটে,
সে সময়ে চুপ থাকা মানেই অপরাধে অংশ নেওয়া।
আমাকে বলো না “সহনশীল হও”,
সহনশীলতার নামে পৃথিবী
সবচেয়ে বেশি খুন করেছে মানুষকে।
আমি জানি,
আইন কাকে রক্ষা করে
আর ন্যায় কাকে কবর দেয়।
আমার কণ্ঠ ভদ্র নয়,
কারণ ভদ্র কণ্ঠ দিয়েই ইতিহাস
সবচেয়ে নিষ্ঠুর আদেশগুলো পড়ানো হয়েছে।
আমি অভিযুক্ত -কারণ আমি অন্যায়ের পাশে দাঁড়াতে শিখিনি।
সময়ের পাশে দাঁড়িয়ে
—————————-
আমি সময়ের পাশে দাঁড়াই,
নদীর ধারে ভেসে আসে অতীতের ছায়া।
মানুষ আসে, যায়, কিছু রেখে যায় না,
কিন্তু নদী সব কিছু মনে রাখে।
ফুটপাতে বসে থাকা বৃদ্ধ দেখায়,
কীভাবে বয়সও শীতল হাওয়ায় গলে যায়।
শহরের শব্দগুলো মিলিয়ে
একটি নীরব সুর তৈরি হয়।
আমি কিছুক্ষণ থেমে থাকি,
শুধু শোনার জন্য—
কারণ জীবনের কিছু কথা
শুধু নিঃশব্দে বলা যায়।