নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ করার পর তা প্রত্যাহার করতে চাপ, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সুমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। সেখানে সুমন, হারুন ও কাউসার নামে তিনজন তাকে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করেন। পালানোর চেষ্টা করলে হারুন তাকে বাধা দেন এবং মাথায় আঘাত করলে তিনি আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তার দাবি, অভিযোগের পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং থানার এক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।
“আমি থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু মামলা এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে আমাকে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো আপস চাই না, আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সুমনের পরিবার তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত দাবি করে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছে এবং এ বিষয়টি সামনে এনে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া অভিযুক্তের ভাই রবিন তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাকান্দি এলাকার একটি সাততলা ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। যদিও তারা ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার ভাই রবিন গণমাধ্যমকে জানান, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রবিন আরও দাবি করেন, “শান্তার বিষয়টি আমি জানি। আমরা তাকে বিদেশে পাঠিয়ে বিষয়টির সমাধান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিবারও সমস্যায় রয়েছে।”
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তাদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ ও হুমকির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।