কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় রোববার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।
কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন,
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। এছাড়া ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্ত এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছিল।
আরও পড়ুন,
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ফল্টলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। তবে এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করে। তাই দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।