পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নানা সংকটের মুখে পড়েছে টানা তিনবার রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। দলীয় বিদ্রোহ ও অভ্যন্তরীণ ভাঙনের প্রেক্ষাপটে এবার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন টিএমসির সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় সংকট মোকাবিলায় প্রবীণ ও অনুগত নেতাদের গুরুত্ব বাড়িয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো এবং টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদে বহাল রাখা হলেও তার একক ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। অভিষেকের পাশাপাশি রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিষেক আর এককভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/ভয়াবহ-অগ্নিকাণ্ডে-কাঁদছে/
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিদ্রোহ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক দলীয় সভায় অভিষেকের ভূমিকাকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে বলা হলে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়। তাদের অভিযোগ, দলের অজনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ অভিষেকের রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্বের ধরন।
এ অসন্তোষ থেকেই ধীরে ধীরে দলীয় বিভক্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্রোহে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এদিকে প্রবীণ নেতা চন্দ্রমা ভট্টাচার্যকে নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুব্রত বক্সীকে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পদে বহাল রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/এআই-ফর-অল-ঘোষণা-কানাডার/
দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন মুখ আনা হয়েছে। সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বাতী খান্ডেকরকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া সাংসদ সায়নী ঘোষ যুব শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। দলীয় বিদ্রোহের মধ্যেও যারা এখনো ‘দিদি’র প্রতি অনুগত রয়েছেন, তাদের মধ্যেই দায়িত্ব বণ্টনে গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।