বিয়ানী বাজার, সিলেট প্রতিনিধি:
প্রকাশকাল:১৬ ডিসেম্বর ২০২২
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। দিনদুপুরে সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ স্থানীয় জনমনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর ও নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাশিদ আহমদের মাধ্যমে জানা গেছে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ দুপুরে সোহেল আহমদের ওপর হামলা চালায় সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি দল। সালাউদ্দিন একই কলেজের ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। ছাত্রলীগের কলেজ শাখার কমিটি নিয়ে সোহেল আহমদ এবং সালাউদ্দিন-জুনেদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছিল। ২৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যেখানে সুহেল আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এতে সালাউদ্দিন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুনেদ আহমদসহ বিরোধী পক্ষের একাধিক সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সেদিন দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে সোহেল আহমদ একা ছিলেন, সেই সময় সালাউদ্দিন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুনেদ আহমদসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। বাগবিতণ্ডা দ্রুত রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে এবং সালাউদ্দিন ও জুনেদ আহমদ সোহেল আহমদকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন বলে জানান রাশিদ আহমদ। পরে প্রত্যক্ষদর্শী রাশিদ আহমদ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সোহেল আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগেরও একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোহেলের পিতা আলী আহমদ বলেন, “আমার ছেলে সব সময় কলেজের ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করতে চাইতো। সে কোনোদিন কারও ক্ষতি করেনি। আমার ছেলেকে এমন নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হলো কেন? আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।