ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবজীবনের স্বাভাবিক চাহিদা, নৈতিকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। পরিবার গঠন ও সমাজকে সুসংহত রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ইসলাম বিয়েকে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করেছে। সেই সঙ্গে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের সুযোগও রেখেছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/স্বাস্থ্য-পরীক্ষার-জন্য/
বর্তমান সময়ে একাধিক বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই ধরনের অতিরঞ্জন দেখা যায়। কেউ এটিকে সীমাহীন স্বাধীনতা হিসেবে তুলে ধরেন, আবার কেউ একে সম্পূর্ণ অমানবিক আখ্যা দেন। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি এর কোনোটিই নয়। ইসলাম যেমন প্রবৃত্তির লাগামহীন অনুসরণকে সমর্থন করে না, তেমনি বাস্তব জীবনের প্রয়োজন ও সংকটকেও অস্বীকার করে না। বরং ইসলাম মধ্যপন্থার শিক্ষা দেয়, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবার কল্যাণ বিবেচনায় রাখা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে এতিম নারীদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারজন নারীকে বিয়ে করো। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকেই বিয়ে করো…” (সুরা নিসা : ৩)।
এই আয়াতে একাধিক বিয়ের অনুমতি যেমন রয়েছে, তেমনি সবচেয়ে বড় শর্তও স্পষ্ট করা হয়েছে—ন্যায়বিচার। অর্থাৎ এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়; বরং প্রয়োজন, সামর্থ্য ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার ভিত্তিতে অনুমোদিত একটি ব্যবস্থা। কারো জন্য এটি বৈধ ও উপযোগী হতে পারে, আবার কারো জন্য অপছন্দনীয় কিংবা অন্যায় আচরণের আশঙ্কায় নিষিদ্ধও হতে পারে। একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো স্ত্রীদের মাঝে সমতা রক্ষা করা। ভরণপোষণ, বাসস্থান, সময় বণ্টন ও আচরণ—সব ক্ষেত্রেই ইনসাফ বজায় রাখতে হবে। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজ স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে সময় বণ্টন করতেন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন নিজের সাধ্যের বাইরে থাকা বিষয়ে তাকে জবাবদিহি না করা হয়।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/বিএনপির-অঙ্গ-সংগঠনে-আসছে/
হাদিসে আরও সতর্ক করা হয়েছে, যার একাধিক স্ত্রী রয়েছে কিন্তু সে একজনের প্রতি অন্যায়ভাবে বেশি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে অসম অবস্থায় উপস্থিত হবে। এ থেকে বোঝা যায়, একাধিক বিয়ে শুধু অনুমতির বিষয় নয়, বরং এটি কঠিন জবাবদিহির বিষয়ও। মনে রাখতে হবে, ইসলামে একাধিক বিয়ের বিধান কোনো সাধারণ ভোগের পথ নয়। এটি বিশেষ প্রয়োজন ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে দেওয়া একটি সীমিত অনুমতি। যেখানে ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা ও তাকওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, সেখানে একজন স্ত্রীই ইসলামের নির্দেশিত নিরাপদ ও উত্তম পথ।