জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ৯ জিলহজের আরাফার রোজা নিয়ে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়—এই রোজা সৌদি আরবের আরাফাতের দিন অনুযায়ী হবে, নাকি নিজ দেশের হিজরি তারিখ অনুযায়ী?
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/হজের-উদ্দেশ্যে-ঢাকা-ছাড়ল/
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। তিনি বলেন, আরাফার রোজা মূলত সাধারণ মুসলমানদের জন্য বিশেষ ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থানের সঙ্গে নয়, বরং নিজ দেশের ৯ জিলহজ তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, হাজিদের জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা সুন্নত নয়। কারণ ওই দিন হজের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো সঠিকভাবে আদায় করাই মূল বিষয়। তবে শারীরিক সক্ষমতা থাকলে কেউ রোজা রাখতে পারেন। একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিদায় হজে নবী করিম (সা.) আরাফার দিনে রোজা অবস্থায় ছিলেন না; বরং তিনি সাহাবিদের সামনে দুধ পান করেন, যা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/রোহিঙ্গাদের-জন্য-৭১-কোটি/
মুফতি আবদুল মালেক আরও বলেন, জিলহজের প্রথম ১০ দিন নফল আমল, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দান-সদকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশেষ করে ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হলেও ১০ জিলহজ ঈদের দিন হওয়ায় সেদিন রোজা রাখা হারাম।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/সাহস-থাকলে-দেশে-ফিরে-আদা/
তিনি বলেন, ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। পাশাপাশি বেশি বেশি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” ও “আলহামদুলিল্লাহ” জিকির করার তাগিদ দেন তিনি। শেষে তিনি বলেন, জিলহজের এই দিনগুলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড় সুযোগ। তাই সঠিক জ্ঞান নিয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা উচিত।