ঢাকা থেকে চিলাহাটির দিকে যাওয়া ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পরপরই বাগবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। তাদেরকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নওগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর ফলে ওই রুটে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা-রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং সাতটি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এনিয়ে একই দিন বিকেলে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করা হয়। এই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর পাঠিয়েছেন বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/বগুড়ার-সাত-আসনে-২০-প্রার্/
মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এরআগে চলতি মাসের গেল ১৮ মার্চ দুপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পরপরই বাগবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রেল দুর্ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম ফরিদ আহম্মেদ বলেন, এখানে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব অবহেলা ছিল। আমাদের যে এস্টাবলিশড রুল আছে সেটা লঙ্ঘন করা হয়েছে। রেলওয়ের কোন জায়গায় যদি কাজ করতে হয়, তাহলে স্টেশন মাস্টারকে একটা অর্ডার ওপিটি ফর্ম ইস্যু করতে হয়। এটা ইস্যু করলে স্টেশন মাস্টার গাড়ির চালককে দিত। স্টেশন মাস্টার এই ফর্মটা যদি দিত তাহলে লোকোমাস্টারের জানা থাকতো যে এখানে কাজ হচ্ছে। কাজ হলে ওখানে স্পিড রেস্ট্রিকশন থাকে। গতি নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেখানে ১০ কিলোমিটার বা ২০ কিলোমিটার এরকম থাকে। তো এটা জানা থাকতো আগে থেকেই সে লোকোমাস্টার সচেতনভাবে ওখানে কাজ করতে পারত।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/আদমদীঘিতে-সড়ক-দুর্ঘটনায়/
লোকোমাস্টারের দায়িত্ব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু তাকে (লোকোমাস্টার) সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, সামনে কি আছে না আছে। একটা লোকোমোটিভ থেকে অনেক দূরেই দেখা যায়। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে আগে থেকে রেলের কর্মীরা কাজ করছিল রেললাইনে। ওখানে ফ্ল্যাগ ছিল, ফ্ল্যাটটা এডিকুয়েট ডিস্টেন্সে ছিল না। তারপরেও ফ্ল্যাগ একটু খেয়াল করলে দেখা যেত। এটাও চালকেরও ভুল ছিল। তিনি বলেন, ওখানে যারা কাজ করতেছেন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের যে কর্মকর্তা ওখানে দায়িত্বে ছিলেন উনারও সঠিক দূরত্বে ফ্ল্যাগ ফ্ল্যাগ প্রদর্শন করেননি। যে দূরত্ব আমাদের প্রেসক্রাপ (প্রেসক্রাইবড) রুলে বলা আছে, সেই অনুযায়ী ছিল না। এই কারণে ওখানে তদন্ত কমিটি তিন পর্যায়ে (রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, লোক মাস্টার ও স্টেশন মাস্টার) দায়িত্বের অবহেলার কথা বলেছেন।