মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে নিহত এক যুবকের কবর এক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। এমনকি ঋণ করে লোক রেখে চলছে এই পাহারার কার্যক্রম। নিহত যুবক আরাফাত খান গত বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় একই দিনে আরও একজনের মৃত্যু হয়। পরে আরাফাতকে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/গুলশানে-দ্য-কোর্টইয়ার্ড/
তার বাবা জসিম খান জানিয়েছেন, লোকমুখে শোনা কুসংস্কার ও আশঙ্কা থেকেই তিনি ছেলের কবর পাহারা দিচ্ছেন। তাঁর ভয়, বজ্রপাতে নিহতদের লাশ চুরি হয়ে যেতে পারে। প্রতি রাতেই কবরের পাশে বসে থাকছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতেও সরেজমিনে দেখা যায়, লোহার খাঁচা দিয়ে ঘেরা কবরের পাশে নিঃশব্দে বসে আছেন বাবা জসিম খান।
তিনি জানান, সংসারের দুরবস্থা সত্ত্বেও ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে।” এ ঘটনায় এলাকাবাসীও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পাহারার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/নবীনগর-ভূমি-অফিসে-অনিয়মে/
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, দাফন-কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কবর পাহারার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বজ্রপাতে নিহতদের লাশ চুরির ধারণাটি একটি কুসংস্কার। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত এই ভুল ধারণা থেকেই মাঝে মাঝে কবর খুঁড়ে লাশ চুরির মতো ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।