রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে নিজ বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর রোববার রাতে মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, নূরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও একটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। উদ্ধারকৃত কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং বিভিন্ন আবর্জনায় পরিপূর্ণ। মরদেহে পোকা ধরেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর অন্তত এক বা দুই দিন মরদেহটি ওই কক্ষেই পড়ে ছিল। তবে সঠিক মৃত্যুর সময় ও কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় এসেছে নূরজাহান বেগমের সন্তানদের পরিচয়ের কারণে। তার তিন ছেলের একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। এছাড়া তার মেয়ের স্বামীও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছিলেন।
মায়ের এমন করুণ পরিণতি এবং দীর্ঘ সময় মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের অজানা থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।