নরসিংদী সদর উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভূইয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং সম্পত্তি দখলের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক ও মানবিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি নরসিংদী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/বাংলা-এডিশনের-সাংবাদিক-জ/
পারিবারিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিরোধ এবং স্থানীয় জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে নরসিংদী জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর নরসিংদীতে একটি রাজনৈতিক সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন এবং পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্ত্রী ও সন্তানসহ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। তবে বৈধ ভিসা থাকায় তিনি কয়েকবার গোপনে দেশে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/ঘুষের-টাকায়-পদোন্নতির-ন/
এদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে খুঁজতে একদল ব্যক্তি তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/রাজধানীতে-তীব্র-গ্যাস-সং/
বর্তমানে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে পারে এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক মামলা এবং দলীয় বিরোধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।