চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) আল হামিদ টেক্সটাইল নামের কারখানার ভবনটিতে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসীম উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবনটি আটতলা। সাততলা ও আটতলায় আগুন লেগেছে। যেখানে দাহ্য পদার্থ রয়েছে। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।
মালিকের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সাততলা ও আটতলায় কারখানাটির গুদাম, যেখানে কোনো শ্রমিক ছিল না। আগুন লাগার খবর পেয়ে ছয়তলা থেকে মানুষ নেমে এসেছে। তারাও ২৫ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ও নৌবাহিনী তিনটি ইউনিট কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিজিবি জানায়, উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছে বাহিনীটির দুই প্লাটুন সদস্য।
প্রসঙ্গত, আজ দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আটতলা ওই ভবনে আগুন লাগার সময় অন্যান্য তলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কেউ হতাহত হয়েছেন কি না তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প এলাকার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। এদিকে, আগুনের তীব্রতাও অনেক বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে, সেনা, নৌবাহিনীর ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য যোগ দিয়েছে। কারখানা দুটিতে হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও তোয়ালে তৈরি করা হতো। প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।