আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/শনিবারের-আপডেট-কোন-মুদ্র/
সরেজমিনে দেখা যায়, জমির ক্রেতা-বিক্রেতা, দলিল লেখকদের নির্দিষ্ট দালালের আনাগোনা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দালালেরা নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে সহজেই জমি নিবন্ধনের কাজ করিয়ে দেন। কাগজপত্রে সমস্যা থাকলেও ঠিকমতো যাচাই করা হয় না আর দালাল ছাড়া গেলে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। উক্ত দপ্তরে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে জাল দলিল তৈরির চক্রও এখানে সক্রিয়। ভূমি নিবন্ধনের দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের। সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়-গুলো দেখভাল করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নিবন্ধন অধিদপ্তর। অথচ সরকারের উর্ধ্বতন মহলগুলো সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কিছু অনিয়ম হয় আমলে নেয় না।
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদের অফিসে চলছে নিয়মিত দলিল বাণিজ্য। দলিল লেখক থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার পর্যন্ত এক অভিন্ন দুর্নীতির চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির মূল্য পরিশোধের পর নিরুপায় ক্রেতাকে বৈধ-অবৈধ দু’খাতে টাকা দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে দলিল সম্পাদনকালে দিতে হয় ‘অফিস খরচ’। কথিত ওই অফিস খরচই হলো সাবরেজিস্ট্রারের নির্ধারণ করা ঘুষ। সরকারি ফি পরিশোধের পর ওই অফিস খরচ দিয়েই এখন সাধারণ মানুষজনকে দলিলপত্র রেজিস্ট্রি করতে হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতির নেতাদের সখ্যতায় ঘুষের আখড়া বসেছে এই অফিসটিতে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/১৬-রাউন্ড-শেষে-৫৩৮-ভোটে-পি/
গত ১০ই অক্টোবর, ২০২৩ ইং তারিখে ইমরুল খোরশেদ কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পরপরই ঘুষ বাণিজ্যের নতুন পন্থা অবলম্বন করে দুর্নীতির রামরাজত্ব তৈরি করে। জমি সংক্রান্ত এমন কোনো কাজ ছিলো না যে কাজের জন্য সে ঘুষ নেয় নি- এমনটাই অভিযোগ করেছে সেবাগ্রহীতারা। ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলেও বিপুরাজ্যের রাজা শাহীনের সাজানো গুছানো পথ আর পূর্বের দলিলপ্রতি ঘুষের হার তালিকা অনুযায়ী ইমরুলের সহায়তায় এখনও একই প্রসেসে সক্রিয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত সেবাগ্রাহকদের ভোগান্তি দিয়েই চলেছে। মূলত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় রাজউকের আওতাভুক্ত ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প ও হাসনাবাদ হাউজিং প্রকল্পের নাজিম চেয়ারম্যানের মেয়ে কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত জমি প্লট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থেকে সরকারি বরাদ্দকৃত প্লটগুলো বিপুরাজ্যের রাজা শাহীনের ইশারা ছাড়া সাব রেজিস্ট্রার ইমরুলের কলম নড়তো না।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/দক্ষিণ-এশিয়ায়-শিক্ষকের-দ/
সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রি ফির বাইরেও দলিল বাবদ মৌজার রাউন্ড ফিগারে প্রতি লাখে ১ শতাংশ অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। পরে এই টাকার বেশির ভাগ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। বাকি অংশ যায় দলিল লেখক সমিতিতে। কয়েকজন দলিল লেখকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অফিশিয়াল ঝামেলা মেটানোর নামে যে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়, তাকেই সেরেস্তা খরচ বলা হয়। অফিসের সঙ্গে দলিল লেখক সমিতির নেতাদের যোগসাজশ থাকার কারণেই অবৈধ সেরেস্তা খরচের টাকা আদায় বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বদনাম হচ্ছে সাধারণ দলিল লেখকদের। পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সকলের তালিকা উল্লেখ করা হবে।
ধারাবাহিক চলবে…