শিশু অধিকার রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে ইউনিসেফ ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ যৌথভাবে এক সংলাপের আয়োজন করেছে। গত ৯ অক্টোবর আইসিসি বাংলাদেশের গুলশান সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সংলাপে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে শিশু অধিকার, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সংলাপে বলেন, প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনা ও নৈতিক করপোরেট চর্চা প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
মাহবুবুর রহমান আরও জানান, ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রমে আইসিসি বাংলাদেশ নিয়মিত সহযোগিতা করছে। ২০২২ সালে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা দুর্গত মানুষের সহায়তায় ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেয় সংস্থাটি। এছাড়া ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের মাধ্যমে ৩০.১৭৫ মিলিয়ন টাকা (প্রায় ২৭৫,৫৭০ মার্কিন ডলার) অনুদান প্রদান করা হয়।
ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরেইজিং ও পার্টনারশিপস বিভাগের পরিচালক কার্লা হাদ্দাদ মারদিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে একত্রিত করে যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আইসিসি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের পুঁজি, উদ্ভাবন ও নেটওয়ার্ককে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
ইউনিসেফ প্রতিনিধিদল জানায়, বেসরকারি খাত কেবল আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে নয়, বরং নিজেদের প্রভাব, প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, করপোরেট নীতিমালায় ইউনিসেফের Children’s Rights and Business Principles (CRBP) অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিশুবান্ধব কর্মপরিবেশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সংলাপ শেষে ইউনিসেফ ও আইসিসি বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ রোডম্যাপ প্রণয়নে সম্মত হয়। এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হলো করপোরেট সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নীতিগত সংলাপ জোরদার এবং শিশু ও তরুণদের কল্যাণে সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। এই পরিকল্পনা ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ইউনিসেফ-আইসিসি বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাস্তবায়িত হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আইসিসি বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এ. কে. আজাদ, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা অমৃত খান, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক ও উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান।।