রাজধানীর হাতিরঝিলে আপন দুই বোন নিখোঁজ: থানায় জিডি করার ১ মাস ৯ দিন পার হলেও উদ্ধার বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি : দীর্ঘ তদন্তের নামে ঢিলেঢালা ও গড়ি মসির অভিযোগ পরিবারটির
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত নভেম্বর মাসের ৪ তারিখে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে মালেকা আক্তার (২৪) ও রত্না আক্তার (১৮) নামে আপন দুই বোন বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা আজও উদঘাটিত হয়নি। যেদিন তারা নিখোঁজ হয়ে যায় তারপরের দিনই হাতিরঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে নিখোঁজের ১ মাস ৯ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্তের নামে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করে ও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। নিখোঁজ হওয়া দুই বোনের সন্ধান না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।
পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরদিনই থানায় জিডি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ দুই বোন কে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পাশের বাসার লিটন ও তার স্ত্রী এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা ঘটনার মূল সূত্রগুলো খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রেও গড়িমসি রয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
নিখোঁজ তরুণীদের মা বলেন, এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমরা থানা পুলিশ বা প্রশাসনের নিকট হতে কোনো অগ্রগতি বা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। অনেকবার থানায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তদন্ত কতদূর এগিয়েছে—তা কেউ পরিষ্কারভাবে বলতে পারেনি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে আমাদের পুরো পরিবারের সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর প্রতিনিধিকে পরিবারের বড় মেয়ে রহিমা আক্তার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের বারবার অনেক অনুরোধ করা হলেও তারা অনেক সময় ফোন ধরেন না কিংবা অস্পষ্ট তথ্য দিয়ে এড়িয়ে যান। আমরা থানা পুলিশের নিকট হতে আশানুরূপ কোন ফলাফল পাচ্ছি না।ফলে দুই তরুণী কোথায় আছে, তারা নিরাপদে আছে কি না বা বেঁচে আছে কিনা এ নিয়ে পরিবারটিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ফোন করে জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব গোলাম মতুর্জা দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর প্রতিনিধিকে বলেন,
“আমি সদ্য এই থানায় বদলি হয়ে এসেছি। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না।”
তিনি আরও বলেন যে, ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে তিনি আগ্রহী নন। কারণ—
“এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মিডিয়াকে কথা বলার পারমিশন নেই। যা বলার ডিসি স্যার বলবেন।”
তার এই মন্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারটি মনে করছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশের উচিৎ ছিল দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতা নিশ্চিত করা।
নিখোঁজ আপন দুই বোন – মালেকা আক্তার( ২৪ )ও রত্না আক্তার( ১৮)
স্থানীয় মানুষজন ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন—দুই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি একটি গুরুতর ঘটনা। দ্রুত তদন্ত ও উদ্ধারে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
নিখোঁজ দুই বোনের মা ও বড় বোন রহিমা আক্তার সহ পরিবারের সবাই তাদেরকে দ্রুত উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এখন প্রধান-উপদেষ্টার দপ্তর সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।