নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দলীয় এক শ্রেণির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটপাট ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার পতনের দিনই নেতাকর্মীদের আইন নিজ হাতে তুলে না নিতে কঠোর বার্তা দেন। এরই অংশ হিসেবে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখলবাজির অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। তার পরও থেমে নেই চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার মতো বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধার মানিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ রহমানের চাঁদাবাজি ও লুটপাটে অতিষ্ঠ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ জনগন। এলাকার মধ্যে তৈরি করেন বিশাল এক ক্যাডার বাহিনী। ওই সকল ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদাবাজি, মাদকবিক্রি,দখলদারিত্ব, হামলা, ভাঙচুর ও শালিশের নামে অর্থের বিনিময়ে পক্ষ পাতিত্য করার একাধিক অভিযোগ এসেছে। জেলার দায়িত্বশীল নেতারা তাকে সতর্ক করার পাশাপাশি কেন্দ্রেও অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।
তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার সকল অপকর্মের কাহিনী। ২০০০ সালে আন্ধারমানিক ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরে চলে তার রামরাজত্য। করেন বিভিন্ন লোকের উপর নির্যাতন। ওই সময় নির্যাতনের শিকার ভোংগা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মালেক সরদারের ছেলে হালিম সরদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করলে তখন তিনি দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় গোয়াল থেকে গরু ও ক্ষেত থেকে ধান কেটে নিয়ে যায় তার বাহিনী দিয়ে। এরপর পূর্ব কাটা ভোংগা গ্রামের আনোয়ার মাস্টারের ভাই জিন্নাত হাওলাদার তার নিজ জমির গাছ বিক্রির ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা হলে রহমানের হস্তক্ষেপে সেই টাকা ইউনিয়ন পরিষদের জমা রাখলেও তার বৃহৎ অংশ আজও ফেরত পাননি ভুক্তভোগী জিন্নাত।
আওয়ামী লীগের এমপি ও বিহঙ্গ পরিবহনের চেয়ারম্যান পঙ্কজ দেবনাথ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি ও বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক এবং ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন খোকন বিশ দলীয় জোটের ডাকা বিভিন্ন মিছিল সমাবেশ কে বানচাল করার জন্য বিহঙ্গ পরিবহনের সকল অকেজো ফিটনেসবিহীন পরিবহন গুলো রাস্তায় নামিয়ে তাঁদের লোকজন দিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা করে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করতেন। এর নৈপথ্যে কাজ করতেন এই আঃ রহমান। তিনি এমনকি পংকজ দেবনাথ ও খোকন থেকে অগণিত টাকার লেনদেন করে খোকন কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।
২০০৩ সালে গভীর নলকূপের নামে ইউনিয়নের ভোংগা গ্রামের নাজমুল হক নান্নুর ছেলে সুমন হোসেন, মালেক সরদারের ছেলে হালিম সরদার, মোবারক সরদারের ছেলে সোহাগ সরদার, তুজু রাঢ়ী, মহিউদ্দিন রাঢ়ীসহ প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন ব্যাক্তির কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নেন আব্দুর রহমান। যে টাকা তিনি আদৌ ফেরত দেননি। তবে পরবর্তীতে তত্ববধায় সরকারের সময়কালে নলকূপের নামে অর্থ আত্মৎসাতের ঘটনায় তাকে সেনাবাহীনির অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। তখন তিনি ৩ মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। তার এহেন কর্মকান্ডের কারণে মুখ ফিরিয়ে নেন এলাকার বিএনপির সর্বোস্তরের নেতা কর্মীরা।
শুধু এতে ক্ষ্যান্ত হননি ঢাকায় সদরঘাটে কার্গো জাহাজ ব্যবসা ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুন সাহেবের নাম বিক্রি করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখল করেছেন সদরঘাট ও শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড় ও একাধিক বাড়ি। এবং পদ পদবী পাওয়ার পর সভাপতির সঙ্গে ঝগড়া করে তাকে মারার মামলায় জেল ও খেটেছেন।
পরবর্তীতে সদরঘাটের ক্ষমতা ও তার পদ পদবী টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাদের সাথে ও আঁতাত করে ধাবদিয়ে বেরাচ্ছেন এই ১৭টি বছর।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কয়েক নেতা বলেন, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ৫ই আগস্টের আগে যাকে বিএনপির কর্মসূচিতে আনতে পারতো না,
তিনি এখন স্বৈরশাসক হাসিনা পলায়নের পর তার পূর্বের ক্যাডার বাহিনী কে উজ্জীবিত করে তাদের মাধ্যমে শুরু করেন পূর্বের সেই অরাজগতা। তার কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার এই অরাজগতা থেকে রেহাই পাননি বিএনপির অনেক ত্যাগী কর্মীরাও। কাজীরহাট থানার সাবেক যুবদল নেতা আনোয়ারের ঘরে ঢুকে লুটে নেওয়া হয়েছে নগদ অর্থসহ মালামাল। লতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদের বাড়িতে আগুন দিয়ে করা হয় লুট, রক্ষা পায়নি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোমানা বেগমের বাড়ি ঘরও।
তার নির্বাচনী ইউনিয়ন এর বর্তমান চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খোকন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আমি পরিষদে যেতাম না পরবর্তীতে সেনাবাহিনী আমাকে ঠিক ভাবে আমার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলেন। কিন্তু আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের চাল, টিসিবি কার্ড, জেলে কার্ডের চাল, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও গ্রাম্য আদালতের মতো বিষয়গুলো থেকে আমাকে সড়িয়ে আব্দুর রহমান ও তার বাহীনির লোকজন তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এমনকি রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের কথা বলে আমার থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা নিলেও করেনি কোন ইফতার মাহফিল।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই, এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এই বিষয়ে আমাকে কিছুই বলেনি।
এই সকল বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কারও কাছে চাঁদাবাজি করিনি। আমার কোন ক্যাডার বাহিনী নেই। আমি বর্তমানে ঢাকায় থাকি এক কথায় বলতে গেলে আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এই সকল মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে। আমি এই সকল মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।