ভোটের হাওয়া: নোয়াখালী ২ আসন
———————————-
বিএনপি’র দুর্গ খ্যাত আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এগিয়ে আছেন সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান।
নিজস্ব প্রতিবেদক -মোহাম্মাদ হারুনুর রশিদ:
সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নোয়াখালীর দুই আসন। সেনবাগ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন এক পৌরসভা ও সোনাইমুড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী ২ আসন।
এই আসনটি নোয়াখালী জেলার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিশেষ করে সৌদি প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবি দ আব্দুল মান্নান এর সমর্থক ও কর্মী বাহিনী ইতিমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে উঠোন বৈঠক করছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং ইসলামী আন্দোল বাংলাদেশের একক প্রার্থী ঘোষণা করলে ও বিএনপির রয়েছে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে পোস্টার সাটানোর মধ্যেই নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন।তারা হলেন বিএনপির সৌদি প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজনীতিবিদ আব্দুল মান্নান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি জয়নুল আবেদীন ফারুক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সেক্রেটারি কাজী মুফিজুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশিত তিনজন হলেও সেনবাগে দীর্ঘ দিন যাবৎ দলের নেতা কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। জয়নুল আবেদীন ফারুক ও কাজী মফিজুর রহমান সমর্থিত নেতাকর্মীদের দলীয় কোন্দল অনেকদিন ধরেই চলমান রয়েছে। এই দিক দিয়ে স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজ নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজনীতিবিদ এলাকাবাসী ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান। তিনি দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের সমর্থন ও সহানুভূতি রয়েছে তার দিকে।
এদিকে জামাতে ইসলামের দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন বিশিষ্ট আলেম নোয়াখালী জেলার জামাতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ। দলীয় নেতা কর্মীরা তার পক্ষে বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী একজন সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে জামাতের একক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর কারণে মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান ও জয়নুল আবেদীন ফারুক এবং কাজী মফিজুর রহমান বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্প্রতি ব্যাপকভাবে সাংগঠনিক ও নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক ও দলীয় কার্যক্রম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে কাকে মনোনয়ন দিবেন সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোন বার্তা আসেনি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি’র ৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্মিলিতভাবে একজনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন কিনা সেই দিকেই দৃষ্টি রয়েছে সবার। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপির এই তিন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে সমঝোতা না হলে প্রার্থী নির্বাচনের পর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্রতর হতে পারে যা প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনী ফলাফলে। বিএনপি’র এক সময়ের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বিজয় কেতন কার হাতে উঠবে সেটাই এখন দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন এলাকাবাসী ভোটাররা। এদিকে এলডিপি গণধিকার পরিষদ,লেবার পার্টি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম এখনো কেবল পোস্টার সাটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। মাঠে ময়দানে তাদের কার্যক্রম তেমন একটা চোখে পড়ছে না।
তবে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী ২ আসনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাঠ পর্যায়ের অবস্থানই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপরেখা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।