হাবিব সরকার (স্বাধীন):
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর-৬ নং আসনের চমক তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জন্ম: ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩)।বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন রাজপথ কাঁপানো সাহসী নেতা জোনায়েদ সাকি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সৎ সাহসী নিষ্ঠাবান বাঞ্ছারামপুরের কৃতি সন্তান আন্দোল সংগ্রামের অন্যতম নায়ক স্বনামধন্য ব্যক্তি সাকি।ইতিপূর্বে বিএনপি সমর্থক জোনায়েদ সাকির দিকে।চলছে নির্বাচনের প্রচারণা,আন্দোলনের প্রার্থীর সমর্থকদের আয়োজনে মাথাল প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। তথ্য সূত্রে জানা যায় যে শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থীর সমর্থকদের আয়োজনে মাথাল প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন,নির্বাচন বানচাল করতে এখনো বহু ফ্যাসিস্ট অনেকে ষড়যন্ত্র করছে।মানুষের ন্যায্য অধিকার ভোট, সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায় একটি চক্র। আপনারা যেভাবে পারেন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিবেন। এদেশ আপনার আমার সবার।কিছু লোক আছে ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানকে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়।শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে নির্বাচনী পথসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি পূর্বের সকল ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি মাথাল মার্কায় ভোট ও দোয়া চান।
জোনায়েদ সাকি বলেন, অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। এই দেশে সংস্কার করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন দরকার। তিনি আরও বলেন, যদি ন্যায়বিচার চাই, সংস্কার চাই এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।তাহলে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার—সবকিছুর ক্ষমতা জনগণের হাতেই।
মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনেকে কারচুপি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা যেভাবে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে, আমরা নতুন বাংলাদেশের প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। জনগণের মধ্যে ঐক্য থাকলেই, গণতন্ত্র থাকলেই জনগণই পারবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।’

রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘খেটে খাওয়া মানুষের নায্য হিস্যা, সব মানুষের—নারী-পুরুষ, ধর্ম-জাতি—পরিচয় যা–ই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেই দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে হবে। সেই দিনই আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য। আমরা আশা রাখি, বাংলাদেশের মানুষ যুগপৎ আন্দোলনের যে লড়াই, এই লড়াইকে বিজয়ী করবে এবং তারাই আগামী দিনের সরকার গঠন করবে। বিজয়ী হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশের মানুষের কল্যাণে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ডিআইজি আবদুল খালেক। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জিয়া উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান ও অঙ্গ সংগঠনসহ সর্ব শ্রেণীর পেশাজীবী জনগণ।