মোহাম্মদ রাসেল:
এক যুগান্তকারী চিকিৎসা সাফল্যে, প্রফেসর মাশুদু চিফুলারো এবং তাঁর টিম প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি-প্রিন্ট করা হাড় ব্যবহার করে মধ্যকর্ণ ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
এই অগ্রগামী পদ্ধতি নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করেছে জন্মগত ত্রুটি, সংক্রমণ, আঘাত বা বিপাকজনিত রোগে আক্রান্ত শ্রবণ সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য।
২০১৯ সালে প্রথমবার এই অভিনব অস্ত্রোপচারটি চালানো হয়, যেখানে মধ্যকর্ণের হাড়—হ্যামার, অ্যাম্বিল ও স্টিরাপ প্রতিস্থাপন করা হয়। ইতোমধ্যেই এই পদ্ধতিতে দুইজন রোগীর জীবন পরিবর্তন হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন জন্ম থেকেই অপূর্ণভাবে গঠিত কানের ভেতরের অংশ নিয়ে জন্মেছিলেন।
থ্রিডি-প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে বায়োকম্প্যাটিবল টাইটেনিয়াম দিয়ে হাড় পুনর্গঠন করা হয়, যা সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ফলাফল নিশ্চিত করে। অতি সামান্য কাটা ছেঁড়ার মাধ্যমে এন্ডোস্কোপিকভাবে এই অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা হয়, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় স্নায়ু ক্ষতি ও দাগ পড়ার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।
অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে সারা বাংলাদেশে “সেন্ট্রাল হেয়ারিং কেয়ার” প্রতিষ্ঠানটি সেবা ও কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ অবদানের জন্য স্পিচ এন্ড হিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ হতে সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করছেন সেন্ট্রাল হেয়ারিং কেয়ার এর কর্ণধার মোহাম্মদ রাসেল
ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ার ওটোরাইনোল্যারিংগোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর চিফুলারো এই অর্জনকে চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্ভাবনের শক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “থ্রিডি প্রযুক্তি আমাদের এমন কিছু করতে দিচ্ছে যা আগে কল্পনাও করা যেত না।”
যদিও প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, প্রফেসর চিফুলারো এই পদ্ধতির আরও উন্নয়ন ও বিস্তার সাধনে পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে