প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় হয়রানির শিকার মোহাম্মদ গোলাম রাসুল
তারিখ:১৭ মে ২০২৫,
ঢাকা প্রতিনিধি:
ঢাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও এলিগেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব তানভীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে এক মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে এক প্রাক্তন পোশাক খাতের কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম রাসুল চরম হয়রানি, হুমকি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জনাব রাসুল দীর্ঘদিন ধরে একটি বহুজাতিক পোশাক সোর্সিং কোম্পানিতে ম্যানেজার মার্চেন্ডাইজিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার নেতৃত্বে কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি উল্লেখ যোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ২০২১ সালে এলিগেন্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যাসিওপিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড-এর ব্যর্থতায় বিপুল অর্ডার ডেলিভারি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে।
পরবর্তীতে কাঁচামাল সরবরাহকারীরা পাওনা না পাওয়ায় জনাব তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। ওই মামলায় জনাব রাসুল ছিলেন সাক্ষী। আদালতে সত্য বিবরণ দেওয়ায় তানভীর আহমেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে সাক্ষ্য তুলে নিতে হুমকি দেন বলে জনাব রাসুলের অভিযোগ।
জনাব রাসুল জানান, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে তিনি বারবার প্রাণনাশের হুমকি পান জনাব তানভীর থেকে। মিরপুর মডেল থানার পুলিশ প্রভাবশালী ওই ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কোনো সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
২০২৩ সালের আগস্টে পরিবারসহ কানাডায় আশ্রয় নেন জনাব রাসুল। তবে এরপরও তার ঢাকার মিরপুরের ফ্ল্যাটে পুলিশ ও অজ্ঞাত লোকজন তল্লাশি চালায়, ভাঙচুর করে এবং তার ছোট ভাইকে একাধিকবার মারধর করে। জনাব রাসুল আরও অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ কর্মকর্তারা তার ছোট ভাইকে বেআইনিভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর তার কানাডায় অবস্থানের খবর জনাব তানভীরকে জানান। ২০২৪ সালে তার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চ মাসে জনাব তানভীর কে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি’র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তার ক্ষমতা ও প্রভাব আরও বেড়ে যাওয়ায় গোলাম রাসুল আশঙ্কা করছেন, তিনি দেশে ফিরলে হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা প্রাণনাশের শিকার হবেন।
গোলাম রাসুল কানাডা থেকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। শুধু একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সত্য বলার কারণেই আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের আশা করা যায় না এবং পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো দুর্নীতিগ্রস্ত। আমার ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমি কানাডায় আশ্রয় চাইছি।”
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সাধারণ নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে নিরাপদ পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।