পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোঃ ওবায়দুল হক বাদল খানের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধাওয়া গ্রামে নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম (৬৫) এবং তার মেয়ে চম্পা বেগম (৩২) হত্যাকান্ডের ঘটনার পর অভিযুক্ত মোঃ ওবায়দুল হক বাদল খান (৪৫) পলাতক রয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় বিবাহের ১৯ দিনের মাথায় নিজ স্ত্রী ও শাশুড়ীকে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের আত্মীয় স্বজনরা মোঃ ওবায়দুল হক বাদল খানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত খুনি ওবায়দুল হক খান বাদল
কি কারণে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি স্থানীয়রা। চম্পা বেগম এর দুলাভাই জানান যে এক লক্ষ টাকা চেয়েছিলো ব্যবসার জন্য বাদল খান। টাকা না দেয়ায় ঝামেলার সৃষ্টি হয় তবে এমন ঘটানা ঘটবে তা কেউ বুঝতে পারেনি।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানায় অভিযুক্ত মোঃ ওবায়দুল হক বাদল খান এর আগে ৩ বার বিয়ে করেছিল। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ প্রতিবেশী চাচাতো বোন চম্পাকে বিয়ে করে সে। এরপর থেকেই সে স্ত্রী চম্পা, শাশুড়ি ফরিদা বেগম এবং প্রথম স্ত্রীর ছেলে ইয়াসিনকে (১০) নিয়ে একটি ফাঁকা বাড়িতে বাসবাস করত।
সোমবার রাত ১১টার দিকে ইয়াছিন ঘর থেকে পালিয়ে এক প্রতিবেশীকে জানায় যে, তার বাবা সৎ মা চম্পা এবং সৎ নানী অর্থাৎ চম্পার মাকে হত্যা করেছে। এ খবর বলে ছেলে আত্মগোপনে চলে যায় তার পরে তাকে আর এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহত চম্পা বেগম
পরবর্তীতে চম্পার মামাতো বোন এবং প্রতিবেশী নাছিমা বেগমের ঘরের মধ্যে গিয়ে দুইজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তাদের শরীরে আগুন জ্বলছিল। তখন তিনি বাথরুম থেকে পানি এনে অগুন নিয়ন্ত্র করে এবং এলাকা বাসী ও পুলিশ কে খবর দেন।
কি কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে কেউই কিছু বলতে পারেনি। এই হত্যাকান্ড সংঘটিতের পর থেকে অবুঝ শিশু পুত্র ইয়াসিনকে কে পাওয়া যাচ্ছে না। অবুঝ সন্তানকে পাওয়া গেলে হয়ত হত্যার কোন রহস্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং সিআইডি পুলিশের একধিক টিম ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন ভান্ডারিয়া উপজেলা শাখা টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।অভিযুক্ত হত্যাকারী মোঃ ওবায়দুল হক বাদল খান এর ধাওয়া বাজারে একটি চায়ের দোকান আছে।
ভান্ডারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ আহমদ আনওয়ার জানায় পারিবারিক কারণে এ হত্যা কান্ড হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারনা করা যাচ্ছে। তিনি ২০দিন আগে ৪র্থ বিবাহ করেন এখানে অন্য কোন কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকার হিট ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান হত্যাকারী ওবায়দুল হক বাদল খান পলাতক আছেন। আইনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে । আশা করি খুব শিগ্রই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকারীকে ধরতে পারবে। সকলের সহযোগিতা করা উচিত হত্যাকারীকে ধরিয়ে দিতে।হত্যাকারীর শাস্তির দাবি ফাঁসি চেয়েছেন।