মোঃ ইকবাল হোসেন:
আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ দেশ প্রেমিক বিশিষ্ট প্রকৌশলী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর আজ ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রপথিক। তার দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলস্বরূপ আজকের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের স্থপতি হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মাণকাজ শুরু করেন।
কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম সিদ্দিক এবং মাতা বেগম হামিদা সিদ্দিক। কুষ্টিয়ায় তার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের প্রথম ভাগ অতিবাহিত হয়।
১৯৬৬ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তার নিরলস পরিশ্রম তাকে অবকাঠামো উন্নয়নের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
কামরুল ইসলাম সিদ্দিক একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার অধিকারী ছিলেন। তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সভাপতি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩-২০০৪ মেয়াদে তিনি গ্লোবাল ওয়াটার পার্টনারশিপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রথম চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন। জীবনভর তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক তার কর্মের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।