• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প ব্যবসা শুরু হবে ১৪ দিনে, ট্রেড লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বিরতিতে গোলশূন্য কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা লোডশেডিংয়ে উত্তাল দেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এমবিএস–ম্যাক্রোঁর ফোনালাপ বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে চান পদবঞ্চিত নেতারা ইউরোপজুড়ে দাবদাহে ১,৩০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ:মামলা প্রত্যাহারের চাপ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বর্ষসেরা মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে “নজরুল স্মৃতি পদক-২০২৬” সম্মানা পুরস্কার পেলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাদ্রাসা সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিলের বিল সংসদে

তারেক রহমানের অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ: হারুন অর রশিদ হিরো

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার দোয়া ও সহায়তা স্বাগত জানালেন বিএনপি

তারেক রহমানের অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ: হারুন অর রশিদ হিরো

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে বহু নক্ষত্র উঠেছে, বহু নক্ষত্র মিলিয়ে গেছে। কেউ ছিলেন উজ্জ্বল, কেউ ক্ষণিকের আতশবাজি। কিন্তু কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের সঙ্গে দেশের ইতিহাস জড়িয়ে থাকে অনিবার্য সূত্রে- দুঃসময়, উত্তরণ, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক স্বপ্নের সঙ্গে। তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমনই এক নাম।

তাঁর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা, তাঁকে ঘিরে জনমানসে জমে ওঠা ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর মা খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত সংকট- সব মিলিয়ে আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘অপেক্ষা’ শব্দটি নতুন অর্থ লাভ করেছে।

বাংলাদেশ কি সত্যি তারেক রহমানের অপেক্ষায়? হ্যাঁ, কিন্তু এটি কেবল দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়, এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, নেতৃত্বের অভাব, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরেখা ও একজন মায়ের অসুস্থতায় দেশের আবেগ- সবকিছুর সমষ্টিগত এক প্রকাশ। এই লেখায় রয়েছে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন, যেখানে রাজনীতির বিশ্লেষণ, ইতিহাসের তুলনা, সমাজের প্রতীক্ষা এবং মায়ার সম্পর্ক এক স্রোতে মিশে গেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে এক অদ্ভুত বিভাজনের যুগে দাঁড়িয়ে।

রাজনীতির মাঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা নেই, যুক্তি-পাল্টাযুক্তি নেই, বহু বছর বিরোধী রাজনীতির চর্চা নেই বললেই চলে। গত ১৮ বছর ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আধিপত্য এতটাই বিস্তৃত ছিল যে ভিন্ন কণ্ঠের প্রয়োজনীয়তাই আজ নতুন করে অনুভূত হয়। একদলীয় প্রবণতা কখনো দীর্ঘস্থায়ী স্থিতি আনে না, বরং নতুন সংকটের উপাদান তৈরি করে।
আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্য পুনঃস্থাপনে সক্ষম নেতৃত্বের সংকট হয়ে উঠেছে।

এই সংকট সমাধানে জনগণের দৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই গেছে তারেক রহমানের দিকে, যিনি বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতি জনসাধারণের আশা শুধু দলের সুসংগঠন নয়, বরং দেশের পুরো রাজনৈতিক ভূগোলকে পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রত্যাশা।
ইতিহাসের পরম্পরায় রাজনীতিতে তারেক রহমানের ভূমিকা পরিণত হয়েছে প্রতীকে। তারেক রহমান এমন একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি, যা বাংলাদেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাজারমুখী অর্থনীতি ও শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামো উপহার দিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন একদিকে ছিল বাস্তববাদী, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী।

তারেক রহমান সেই দর্শনের উত্তরাধিকার নিয়ে রাজনীতিতে উঠে এসেছেন, তবে কেবল উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে।
বিএনপির পুনর্গঠনে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা অতুলনীয়। ২০০১ থেকে ২০০৬- এই সময়কালে তিনি দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজ শুরু করেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলের পুনর্গঠন, শিক্ষিত তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত করা, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি- এসবই তাঁকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনিবার্য সম্ভাবনা হিসেবে দাঁড় করেছে, প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকট ছিল বাংলাদেশের অন্যতম কঠিন সময়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাপ, গ্রেপ্তার, নির্যাতন- সবকিছু মিলিয়ে তাঁকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

কিন্তু ইতিহাস বলে, ‘যে নেতৃত্ব ঝড়ের সময় ভাঙে না, তার হাতেই ভবিষ্যৎ নিরাপদ। ’ তারেক রহমানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ঠিক এখানেই দৃঢ়ভাবে আত্মপ্রকাশ করে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, একজন মায়ের আহবান ও দেশের আবেগ আজ এক সূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিতে আবেগপ্রবণ- এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। এ দেশের মানুষের কাছে খালেদা জিয়া শুধু একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি একজন মা, একজন সংগ্রামী নারী, একজন শোকাতুর জীবনযোদ্ধা। আজ তিনি চিকিৎসাশয্যায় শারীরিকভাবে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, তাঁর রয়েছে লিভারজনিত জটিলতা, কিডনি সমস্যা, দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্যাতনের দাগ এবং বয়সজনিত দুর্বলতা। এগুলো তাঁকে দুর্বল ও অসহায় করে তুলেছে। তাঁর অসুস্থতা এখন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি পুরো জাতির উদ্বেগ এবং একটি সহানুভূতিশীল আবেগঘন আলোচনার বিষয়। দেশের মানুষ চায় তাঁর চিকিৎসা, সুস্থতা ও মানবিক মর্যাদা। তাঁরা চায়, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এবং জাতির দুর্দিনে সাহসী নেতৃত্ব উপহার দিয়ে যান। এপক্ষ-ওপক্ষ-নির্বিশেষে সবার কাছেই যে অনুভূতিটি সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল, তা হলো খালেদা জিয়া তাঁর ছেলেকে দেখতে চাইবেন, চাইবেন ছেলে তাঁর পাশে এসে দাঁড়াক- এটি অত্যন্ত মানবিকও।

রোগশয্যায় থাকা একজন মা তাঁর সন্তানের মুখ দেখতে চাইবেন, এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই, রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ও নয়, এটি হৃদয়ের ভাষা। আর যখন দেশের একজন জাতীয় নেতা অসুস্থ, রাজনীতির মাঠ অস্থির, তখন দেশ তাঁর উত্তরসূরির দিকেই তাকায়। এই উত্তরসূরি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসারত অবস্থায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। দুই পৃথিবীর এই বিচ্ছেদ, একজন মায়ের আহবান এবং একটি জাতির প্রত্যাশা একবিন্দুতে গিয়ে মিশেছে। তাই বলা মুশকিল, তারেক রহমানের প্রতি আজ যে অভূতপূর্ব জনসমর্থন, তা বাস্তবতা, নাকি আবেগ?

মানুষ কেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক একমুখিনতা মানুষকে নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে ঠেলে দিয়েছে। তারেক রহমান এই শূন্যস্থান পূরণের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি আলোচনায়, বক্তব্যে, বিশ্লেষণে যে বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন, সেগুলো হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বচ্ছ নির্বাচন, আইনের শাসন, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা। এসবই আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং অতি জরুরি আলোচনার বিষয়। তিনি দূর থেকে দলের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ডিজিটাল যোগাযোগের এই যুগে তাঁর নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে যে রাজনৈতিক শক্তি ভৌগোলিক দূরত্বের কাছে হার মানে না, বরং চিন্তার শক্তি ও তেজস্বিতায় তা কার্যকরভাবে প্রকাশ পায়।

কেউ তাঁকে পছন্দ করুক কিংবা না করুক, একটি সত্য অস্বীকার করা যায় না, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একমাত্র তারেক রহমানই উপযুক্ত কাণ্ডারি, আগামী দিনের সবচেয়ে যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক। দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় একজন সক্ষম রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেও তাঁকে দেখছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ যেন এক বড় নদী, যেখানে স্রোত থেমে গেছে। মাঝনদীতে হঠাৎ বালুচর উঠলে নদী যেমন দিক হারায়, তেমনি এ দেশের রাজনীতিও আজ দিকহীন মনে হয়। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দূর আকাশে কেউ যেন এক ঝলক বিদ্যুতের মতো আলোক ছড়িয়ে বলে, ফিরে আসুন তারেক রহমান, দেশ আপনার অপেক্ষায় আছে।

গ্রামের চায়ের দোকানে, শহরের পাঠাগারে, রিকশাচালকের গন্তব্যে, প্রবাসীদের আড্ডায় একটি নামই আজ বারবার উচ্চারিত হয়- তারেক রহমান। মানুষ তাঁকে দেখে একটি পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এখন একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বলতে শুরু করেছে, তারেক রহমান আসুক, অন্তত মায়ের পাশে দাঁড়াক। এটি নিছক আবেগ নয়, এটি একটি মানবিক প্রশ্ন, একই সঙ্গে রাজনৈতিক একটি প্রশ্নও। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নিরাপত্তাঝুঁকি- সব মিলিয়ে তাঁর দেশে ফেরা কঠিন হলেও তিনি মাটি ও মানুষের টানে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তাঁর এই ফেরা হবে অত্যন্ত গৌরবের, অত্যন্ত সম্মানের।

তারেক রহমান এমন এক রাজনৈতিক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা প্রযুক্তিতে বিশ্বাসী, অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্বচ্ছতা চায়, রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় এবং জাতীয়তাবাদকে আধুনিকতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চায়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে এ ধরনের নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন হলো, কেন তাঁর নেতৃত্ব প্রয়োজন? উত্তর অত্যন্ত পরিষ্কার। তাঁর দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজনীতির তৃণমূল অবকাঠামো সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান, প্রবাসে থেকে বৈশ্বিক রাজনীতি বোঝার সুযোগ, পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সংগ্রামী ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। তিনি আজ জনগণের আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আজকের দিন-তারিখ

  • ()
  • ()