তামাক কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে একটি প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আমরা ধাপে ধাপে বর্তমান জটিল কর পদ্ধতি পরিবর্তন করে একটি নতুন নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করতে চাই। একটি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং মানুষের ধূমপানের প্রবণতাও কমবে।মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে এক কর্মশালায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চাপের সম্মুখীন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং বৈদেশিক খাতে চাপ—এই সব কারণে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই রাজস্ব আয়ের নতুন এবং কার্যকর উৎস খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশে তামাক খাত দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের একটি বড় রাজস্ব উৎস। বর্তমানে মোট রাজস্বের প্রায় ৯ থেকে ১১ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। ২০১০ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। ২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে এসেছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/সাউথইস্ট-ব্যাংকের-আর্থিক/
দেশে বর্তমানে সিগারেটের ওপর চার স্তরের কর কাঠামো রয়েছে—লো, মিডিয়াম, হাই ও প্রিমিয়াম। প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা ন্যূনতম মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারিত। কিন্তু এই বহুস্তরভিত্তিক কাঠামো জটিল। এই জটিলতার কারণে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দাম বাড়লে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামের সিগারেটে চলে যান। ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বৃদ্ধি হয় না। সেই সঙ্গে অবৈধ সিগারেটের বাজার বাড়ে, কর প্রশাসনের কাজ জটিল হয়ে পড়ে এবং কর ফাঁকি ও বাজার বিকৃতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/জলবায়ু-প্রকল্প-ও-অর্থায়ন/
গবেষণায় তিন ধরনের কর কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সিমুলেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দিতে সক্ষম। এ ব্যবস্থায় আগামী ১০ বছরে বর্তমান পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ২২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। একই সঙ্গে সিগারেটের ব্যবহার প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি হারে কমতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে তামাক কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিলিপাইন ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বা মিশ্র কর ব্যবস্থায় চলে গেছে। কর্মশালায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সেক্রেটারি আবুল কাশেম এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের ম্যানেজার (প্রোগ্রামস) রোদশী তাহসিন উপস্থিত ছিলেন।