জুলিয়া জাহান:
চিনি থেকে বেশি ক্যালরি গ্রহণ না করাই উত্তম।রক্তে দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে—খারাপ ও ভালো। খারাপটা হলো লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল। আর ভালোটাকে বলে হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, যা এইচডিএল নামে পরিচিত।
কানাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাডিসন ব্রাউন এমন কিছু গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতির কথা বলেছেন, যার জন্য আপনার কোনো ওষুধপত্র খেতে হবে না, কিন্তু খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমবে প্রাকৃতিকভাবেই। এসব এতই সাধারণ ও ছোট যে আপনি জেনে অবাকও হতে পারেন।
১. দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার আরও খান:
খাবারে আঁশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি পেটের ভেতর জেলের মতো একধরনের বস্তু তৈরি করে, যা রক্তে মেশার আগেই কোলেস্টেরলকে এর ফাঁদে আটকে ফেলে।
ওট, ডাল, চিয়া ও তিসি বীজের মতো অনেক খাবারই আঁশযুক্ত ও পানিতে দ্রবণীয়। এসব দ্রবণীয় আঁশ খাবারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে হজমপ্রক্রিয়ায় ঢুকতে বাধা দেয় এবং বর্জ্য হিসেবে শরীরের বাইরে বের করে দেয়।
আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা যায়, দিনে মাত্র ৫–১০ গ্রাম দ্রবণীয় আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় প্রায় ৫ শতাংশ।
২. খাবার প্লেটকে ‘প্ল্যান্ট’ দিয়ে পরিপূর্ণ করুন:
এখানে ‘প্ল্যান্ট’ হচ্ছে উদ্ভিজ্জ খাবার। বলা হচ্ছে, আপনার খাবারের প্লেটে পুষ্টিপূর্ণ উদ্ভিজ্জ খাদ্য বেশি রাখুন। ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার শুধু খাবারের প্লেটকে বৈচিত্র্যপূর্ণই করে না; বরং এসব খাবারে স্টেরল ও স্ট্যানলের মতো উদ্ভিজ্জ চর্বি যোগ করে। এই স্টেরল ও স্ট্যানল রক্তে কোলেস্টেরল শোষণ কমায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কোলেস্টেরল শিক্ষা কর্মসূচি অনুযায়ী, খাবারে দৈনিক ২ গ্রাম উদ্ভিজ্জ স্টেরল থাকলে তা ১০ শতাংশ পর্যন্ত এলডিএল কমায়। উদ্ভিজ্জ খাবারে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টও থাকে, যা ধমনি ভালো রাখে। এটি আঁশ তৈরি করে, যা কোলেস্টেরল নিষ্কাশনে সহায়ক।