• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প ব্যবসা শুরু হবে ১৪ দিনে, ট্রেড লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বিরতিতে গোলশূন্য কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা লোডশেডিংয়ে উত্তাল দেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এমবিএস–ম্যাক্রোঁর ফোনালাপ বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে চান পদবঞ্চিত নেতারা ইউরোপজুড়ে দাবদাহে ১,৩০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ:মামলা প্রত্যাহারের চাপ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বর্ষসেরা মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে “নজরুল স্মৃতি পদক-২০২৬” সম্মানা পুরস্কার পেলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাদ্রাসা সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিলের বিল সংসদে

ট্রান্সকমের ১০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আত্মসাৎ মামলায় সিমিন রহমানসহ ৩ জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার: / ৩৫ Time View
Update : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
আত্মসাৎ মামলায় সিমিন রহমানসহ ৩ জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজের ভাইবোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার (১৪ হাজার ১৬০টি) শেয়ার আত্মসাৎ করার মামলায় মো. লতিফুর রহমানের মেয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমানের আদালতে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করে বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া বাকি দুইজন হলেন— লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হোসাইন। এর আগে, ১১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটে সিমিন রহমান ছাড়া আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি ও লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান। এর মধ্য সামসুদ্দিন পাটোয়ারি মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন যে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ের অ্যাজেন্ডা ছিল (১) পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন (২) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন (৩) লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন। এ মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।

এ মিটিংয়ের বিষয়ে বাদী দাবি করেন, এ ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ২০২০ সালের ১৩ জুনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিশ বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।এছাড়া, আরজেএসসিতে জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও আরজেএসসির নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে।

শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা, অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সামনে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন। এছাড়া, ২০২০ সালে ভাইবোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশিরভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন।

আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/যুক্তরাষ্ট্রে-পড়াশোনা-কর/

এজন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প অ্যাফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশিরভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরে (আরজেএসসি) দাখিল করেন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের দায়ের করা অ্যাফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এ স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন। এর আগে, ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অন্য মেয়ে শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আজকের দিন-তারিখ

  • ()
  • ()