নেপালের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার মন্ত্রিসভায় এক-তৃতীয়াংশ নারী নিয়োগ করেছেন। এটি নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ তার ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৫ জন নারী সদস্য নিয়োগ করেছেন। এটি একটি বিরল ঘটনা। শুক্রবার কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের উপস্থিতিতে এই নারী মন্ত্রীরা তাদের পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় সোবিতা গৌতম আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হবেন। সীতা বাদি নারী, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকবিষয়ক মন্ত্রী হবেন। প্রতিভা রাওয়াল কেন্দ্রীয় বিষয় ও সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রী হবেন। গীতা চৌধুরী কৃষি ও পশুপাখি উন্নয়ন মন্ত্রী হবেন। নিশা মেহতা স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী হবেন। এর আগে ২০২২ সালে ২৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৬ জন নারী সদস্য ছিলেন। কিন্তু ৩৩ শতাংশের কোটা পূর্ণ করা হয়নি। ২০১৭ সালে শের বাহাদুর দেউবার মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। ২০১১ সালে বাবুরাম ভট্টরাইয়ের সময়ে তা ছিল ২৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়/
প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ স্বেচ্ছায় ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য নিয়োগ করেছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। শপথ নেওয়া নারী মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্যময় পেশা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। খাস, দলিত, মাধেসি এবং থারু সম্প্রদায়ের এই নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। প্রতিভা রাওয়াল রাজনীতিতে আসার আগে সাংবাদিক ছিলেন। সীতা বাদি তার সম্প্রদায়ের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। আইনমন্ত্রী সোবিতা গৌতম একজন আইন বিশেষজ্ঞ। নিশা মেহতা একজন নার্স ও অধ্যাপক। গীতা চৌধুরী থারু সম্প্রদায় থেকে আসা প্রথম কেন্দ্রীয় নারী মন্ত্রী হয়েছেন। এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নেপালের শাসনব্যবস্থায় একটি নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।