
সংবিধানের একাদশ ভাগে ‘পদের শপথ’ নিয়ে ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোনো পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের আগে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে ‘শপথ’ বলিয়া অভিহিত) করবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দেবেন।
২(ক) অনুসারে, ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হলে বা না করলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।
(৩) এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের আগে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে। বিএনপি সব দলকে নিয়ে পার্লামেন্টে যাবে।তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদে বিএনপি যে বিষয়গুলোতে সই করেছে, ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফাও বাস্তবায়ন করা হবে।’
তবে ৫ ফেব্রুয়ারি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ১২ তারিখে নির্বাচনের পরে, তাদের শপথ গ্রহণ করার কথা হচ্ছে স্পিকারের, স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। ওনারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/বগুড়ার-সাত-আসনে-২০-প্রার্/
তিনি বলেন, এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় ওনাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের আইনে আছে ওনারা যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। আসিফ নজরুল বলেন, তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথটা না হয় তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। এখন এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, আমি আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে দুটো অপশনই আছে। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। ফর এক্সামপল যেমন হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন, আর যদি এটা না হয় তাহলে আমাদের যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন উনি শপথ গ্রহণ করাবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা নির্বাচন হওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। আমার এখানে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আছেন, উনি আসবেন, ওনার সঙ্গে কথা বলব আইন নিয়ে। তারপরে চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি আমাদের প্রধান উপদেষ্টার অভিমত জানাব।