তারুণ্যের প্রতীক তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কাল-রাত পোহালেই সেই মাহেদ্রক্ষণ:হারুন অর রশিদ হিরো
হারুন অর রশিদ হিরো:
রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের নির্বাসিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ৬ হাজার ৩০৯ দিন নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটবে। আগামীকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীর দৃষ্টি থাকবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পূর্বাচলের বিশাল মঞ্চের দিকে। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতাকে বরণ করতে প্রস্তুত বিএনপি। এখন ঢাকামুখী লাখ লাখ মানুষ। দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আবহ। যেন এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে দেশ।
এদিকে, তারেক রহমানের সংবর্ধনায় বিএনপি ‘শক্তির মহড়া’ দেখাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিপুল লোকসমাগম ঘটবে—এমনটি মাথায় রেখে নানামুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটি এরই মধ্যে বিভিন্ন কমিটিসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছে। বিশাল জনসভার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
নতুন যুগের সূচনা: বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের তারুণ্যের প্রতীক। দীর্ঘ নির্বাসন জীবন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে পূর্ণতা দেবে। আমরা শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে চাই।
গতকাল দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যিনি তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো কমিটির সদস্য সচিব। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন জনগণের প্রিয় নেতা তারেক রহমান। সেদিন তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তিনি।

রিজভী বলেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি দল থেকেও সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আসা বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যেন সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয় এবং যানজট যেন অসহনীয় পর্যায়ে না পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং জেলা প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।