পেন্টাগন দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ভেঙে রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু বা ইউএফও সংক্রান্ত ১৬১টি নথি প্রকাশ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে শুক্রবার এসব নথি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত নথিতে অ্যাপোলো ১১ চন্দ্রাভিযান-এর নভোচারীদের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের দেখা অজ্ঞাত মহাজাগতিক ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের তথ্য।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিন চাঁদে যাওয়ার পথে ব্যাখ্যাতীত উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখতে পান। একইভাবে অ্যাপোলো ১২ মিশন ও অ্যাপোলো ১৭ মিশন-এর নভোচারীরাও মহাকাশে আলোর ঝলকানি ও অজ্ঞাত কণা দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ১৯৬৫ সালের জেমিনি ৭ মিশন-এর অডিও রেকর্ডিংয়ে নভোচারীদের একটি অজ্ঞাত বস্তু নিয়ে গ্রাউন্ড সাপোর্টের সঙ্গে আলোচনা করতে শোনা যায়।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/তাপপ্রবাহে-পুড়ছে-দক্ষিণ/
শুধু মহাকাশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকেও ইউএফও দেখার বহু রিপোর্ট এসব নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ক্যামেরায় ধরা পড়া ডিম্বাকৃতির রহস্যময় বস্তুর ভিডিও। এছাড়া ১৯৫৭ সালে এফবিআই-কে দেওয়া এক ব্যক্তির জবানবন্দি এবং ২০২৩ সালে সাধারণ নাগরিকদের দেখা ভাসমান ধাতব বস্তুর বর্ণনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/১৬-রাউন্ড-শেষে-৫৩৮-ভোটে-পি/
চলতি বছরের শুরুতে এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ভিনগ্রহের প্রাণ ও ইউএফও নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস এ বিষয়ে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবার শুনানি আয়োজন করে এবং সামরিক বাহিনী স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে অনেক আইনপ্রণেতা স্বচ্ছতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।তবে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক সংকট ও ইরান ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রকাশিত ১৬১টি নথি তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।