বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে চীনের এক বিশাল সামরিক প্রকল্প। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলা মোকাবিলায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত মরুভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে নজিরবিহীন এক পারমাণবিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, চীন এমন এক সামরিক নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হামলা চালালেও বেইজিংয়ের পারমাণবিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব না হয় এবং তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বজায় থাকে।
উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ব সিনচিয়াং অঞ্চলের হামি পারমাণবিক সাইলো এলাকাজুড়ে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল সামরিক অবকাঠামো। সেখানে তৈরি হয়েছে রহস্যময় তিনটি বিশাল অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা, যা ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, একটি অংশ সেনাদের আবাসন, সামরিক যান এবং ছদ্মবেশী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্য অংশে রয়েছে শক্তিশালী বাঙ্কার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং বিমানঘাঁটি। এমনকি মহড়ার জন্য পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের আদলে নকল বিমানও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/স্যামসাংয়ে-৭৮-হাজার-কর্ম/
মরুভূমির পাহাড় ও শুকনো খালের আড়ালে নির্মাণ করা হয়েছে ৮০টির বেশি মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র। এগুলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় মাটির নিচে ফাইবার অপটিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট ডিশ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। চীনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো— তারা আগে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। তবে আক্রান্ত হলে শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/অস্থায়ী-ভিসাধারীদের-জন্য/
বিশ্লেষকদের ধারণা, মূলত তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক আধুনিকায়ন করছে বেইজিং। পশ্চিমা কূটনীতিকরা মনে করছেন, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন তাদের পারমাণবিক শক্তিকে কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। Pentagon–এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুতগতিতে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির হাতে এক হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে।