ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় দেশটির লাখ লাখ মানুষ এখন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত থেকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার চালানো ধারাবাহিক বিস্ফোরণে পুরো দেশ কেঁপে ওঠে।
রয়টার্সের জানায়, হাড়কাঁপানো শীত ও শূন্যের নিচের তাপমাত্রার মধ্যে বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ১২ লাখ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন যে শুধু কিয়েভেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভবনে তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যখন এই হামলা চালানো হয়, তখন কিয়েভের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।
রাজধানীর এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৬০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিয়েভ এবং উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ পরিবার বর্তমানে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। কিয়েভের কেন্দ্রীভূত তাপ বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু অ্যাপার্টমেন্ট এখন বরফশীতল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হয়েছে যখন মার্কিন মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার দ্বিতীয় দিনেও কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/অনলাইন-রিটার্ন-বাধ্যতামূ/
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বেরিডেনকো জানিয়েছেন, রাশিয়া মূলত রাজধানী এবং দেশের উত্তর ও পূর্বের চারটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালিয়েছে। সরকার বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করছে এবং বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদিকে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, এই হামলায় রাজধানীতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং খারকিভ শহরে এক শিশুসহ ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের জন্য গরম খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
সম্পাদক : মোঃ মোশাররফ হোসাইন রাজু
প্রকাশক : হারুন অর রশিদ হিরো
মোবাইল: 01711-484208, 01726-702787 ইমেইল: dailybangladeshjuantor@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর. All rights reserved.