
ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। তুষারপাত ও পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনায় ফ্রান্সে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শীতের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উড়োজাহাজ ও রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জার্মানিতেও প্রচণ্ড তুষারপাতে মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান আবহাওয়া দপ্তর।
আটলান্টিকে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ শক্তিশালী ঝড়ে রূপ নিতে পারে। এটি উত্তর ও মধ্য জার্মানি হয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উত্তরে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য অংশে বৃষ্টি ও পিচ্ছিল বরফের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সে বরফ ও তুষারের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী প্যারিসের আশপাশের এলাকায় এক ট্যাক্সিচালক গাড়িসহ মার্ন নদীতে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। প্যারিসসহ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাতের ফলে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারোর বরাতে জানানো হয়েছে, প্যারিসের বিমানবন্দরগুলোতে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ফ্রান্সের ছয়টি ছোট বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।শীতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুলবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি রেলপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরিবহনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আবহাওয়া দপ্তর তুষারপাতের পূর্বাভাস কম করে দিয়েছিল। পূর্বাভাসে যেখানে ৩ সেন্টিমিটার তুষারের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে বাস্তবে ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার জমেছে।
নেদারল্যান্ডসেও তুষারের প্রকোপে বিমান চলাচল বিপর্যস্ত হয়েছে। আমস্টারডামের সিপোল বিমানবন্দরেই চার শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দেশটির বিমান সংস্থা কেএলএম জানিয়েছে, উড়োজাহাজে জমাট বাঁধা বরফ প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবহৃত তরলের ঘাটতির কারণে বুধবার আরও ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জার্মানি থেকে তরল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যুক্তরাজ্যে চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ঠান্ডা রাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পূর্ব ইংল্যান্ডের নরফোক অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্কটল্যান্ডে ৩০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং রেল যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://bangladeshjugantor.com/স্যার-একটু-দেখা-করতে-পার/
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সুইডেনের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। ডেনমার্কের উত্তর জুটল্যান্ডে সম্ভাব্য তুষারঝড়ের আশঙ্কায় উদ্ধার বিভাগ নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে কেন্দ্রীয় তাপ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কয়েক হাজার মানুষ সাময়িকভাবে ঘর উষ্ণ করা ও গরম পানি থেকে বঞ্চিত হন। হাঙ্গেরিতে ভারী তুষারপাতের কারণে বুদাপেস্টসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বলকান অঞ্চলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রোমানিয়ার আলবা জেলায় প্রায় আট হাজার পরিবার টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে পানির সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্পেনের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে মাদ্রিদ ও মায়োর্কার উঁচু অঞ্চলে তুষারপাত হয়েছে।
সম্পাদক : মোঃ মোশাররফ হোসাইন রাজু
প্রকাশক : হারুন অর রশিদ হিরো
মোবাইল: 01711-484208, 01726-702787 ইমেইল: dailybangladeshjuantor@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর. All rights reserved.