নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ:
দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদকের নিকট বর্তমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ বলেন - দেখুন এই রাত শুধু একটা সাধারণ রাত নয়—এটা ইতিহাসের এক রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়। আজকের রাতটা আর দশটা রাতের মতো না। আমি এক নওমুসলিম। আগে ছিলাম হিন্দু, পশ্চিমাদের পক্ষে! তখন ‘জিওপলিটিক্স’, ‘সামরিক জোট’, ‘কূটনীতি’—এসব ছিল আমার চিন্তার বাইরে। কিন্তু আজ, এই যুদ্ধময় সময়ে, চোখে ঘুম আসে না।
বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষণ, সংবাদ আর যুদ্ধজাহাজের চলাচল—সব কিছু ঘিরে এক অজানা উদ্বেগ জমে আছে বাতাসে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন আর কেবল দুই দেশের সংঘর্ষ নয়—এটা যেন এক মর্যাদা বনাম আধিপত্যের টানটান লড়াই। আচমকা সংঘর্ষে ইরানে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি গল্প। ইরানও দিয়েছে জবাব—নির্ভীক, পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী। তাদের এই প্রতিক্রিয়া কেবল একটি সামরিক প্রতিউত্তর নয়—এটা এক স্পষ্ট বার্তা: “আমরা বিক্রি হইনি।”
এদিকে আমেরিকা সরাসরি সংঘাতে নেই, তবে উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ, বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কূটনীতির ভাষায় সংযত হুঁশিয়ারি—সব কিছুই বলে দিচ্ছে, তারা প্রস্তুত। এই পরিস্থিতিতে একেকটি পদক্ষেপ যেন একেকটি দাবার চাল, আর পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী চালের দিকে।সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো—কিছু রাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীরবতা। যাদের আগে কণ্ঠে ছিল সাহস, আজ তারা যেন ভবিষ্যৎ, সম্পদ আর মর্যাদা তুলে দিয়েছে বৃহৎ শক্তির হাতে—সুরক্ষা আর স্বীকৃতির আশায়।এই মুহূর্তে ইরান হয়তো একা, কিন্তু তাদের প্রতিরোধ একার নয়। তাদের সাহসের মাঝে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—সব নিপীড়িত জাতির চেতনা। তাই আজকের রাত কেবল গোলাবারুদের নয়—এটা আত্মমর্যাদারও যুদ্ধ। কে মাথা উঁচু করে থাকবে, কে টিকে থাকবে পরনির্ভরতায়—এই প্রশ্নের উত্তর লেখা হচ্ছে যুদ্ধের ধোঁয়ার আড়ালে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,সমাজসেবক, মানবাধিকার কর্মী, সৃজনশীল লেখক ও গবেষক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ
আমি জানি না আগামীকাল কী হবে। কিন্তু আজ রাত আমাকে শিখিয়েছে—চুপ করে থাকলেই বেঁচে থাকা যায় না। সত্যকে অনুভব না করলে, একদিন মিথ্যা এসে চেপে বসবে আমাদের ঘাড়ে—ছলছল চোখ আর বোবা আতঙ্ক নিয়ে।
✍️ নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ
সম্পাদক : মোঃ মোশাররফ হোসাইন রাজু
প্রকাশক : হারুন অর রশিদ হিরো
মোবাইল: 01711-484208, 01726-702787 ইমেইল: dailybangladeshjuantor@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ যুগান্তর. All rights reserved.